ইসলামী আদর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামী আদর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - islame shamajik subicher pdf

ইসলামে সামাজিক সুবিচার - সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ pdf book
book cover islame shamajilk subiicher pdf
ইসলামে সামাজিক সুবিচার সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ
প্রকাশনীঃ এএইচপি প্রকাশনী
বইয়ের সাইজঃ ৮-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫১৬
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের গতি প্রকৃতি ইসলামের সামাজিক সুবিচার সম্পর্কে আমরা সঠিক জ্ঞান ও পরিচয় তখনই লাভ করেেত পারবো যখন তাওহীদ সৃষ্টি জগত, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইসলামী ধ্যান-ধারণা ও চিন্তাধারার মোটামুটি জ্ঞান ও বুঝ আমাদের লাভ হবে। কারণ সামাজিক সুবিচারের ইসলামী দর্শন সেই মৌলিক নীতি ও বুনিয়াদী চিন্তাধারারই একটি শাখা মাত্র; যা হলো ইসলামের সমুদয় শিক্ষা ও তালিমের মূল কেন্দ্রস্থল।

যেহেতু পূর্ণমানব জীবনটাকে একটি নবরূপে নবছাঁচে ঢালাই করে সংগঠন করার কাজই হলো ইসলামের মূল কর্মসূচী। এ জন্যই তার সমুদয় সংস্কার মূলক কর্মসূচী যেমন আলমারীর তাকের উপর রেখে দেয়া হয়নি, তেমনি সে প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র রূপে আলাদা কোন নীতিমালা ও সমাধানও দেয়নি। তার নিকট রয়েছে তাওহীদ সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন ও ধ্যান-ধারণা। তার সমগ্র শাখা-প্রশাখা ও আনুষঙ্গিক নীতিমালা তার দর্শন ও ধ্যান-ধারণা থেকেই জন্ম লাভ করেছে। তার দর্শন আইন-কানুন বিধান, তার নির্ধারিত সীমারেখা এবং ইবাদাত-উপসনা এবং পারস্পরিক লেন-দেন আদান-প্রদান সম্পর্কীয় নীতিমালার সবই এ মূলনীতির সাথে গভীর সম্পর্কে বিজড়িত। আর এহেন পূর্ণাঙ্গ চিন্তাধারার আলোকেই তার বাস্তব কর্মসূচী প্রণীত হয়। প্রত্যেকটি উদ্ভাবিত নতুন অবস্থার জন্য এমন একটি নতুন ও স্বাধীন কর্মসূচী প্রণয়ন করা হয় যা অন্যান্য ব্যাপারে গৃহীত কর্মসূচীর সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। অথবা প্রত্যেক সমস্যার জন্য স্বতন্ত্র সমাধান অনুসন্ধান করার ও নীতি ইসলামী গতি প্রকৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইসলামে সামাজিক সুবিচারের মূলভিত্তি

ইসলামের সামাজিক ইন্সাফের প্রকৃতি ও স্বরূপ সম্পর্কে বিগত অধ্যায় ইতিপূর্বে আলোকপাত করা হয়েছে। তা একটি লৌহ কঠিন সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে। তাকে সংক্ষিপ্ত দাওয়াত ও অস্পৃষ্ট বস্তু রূপে না রেখে তার পরিবর্তে সে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যাবলী অর্জনের নিমিত্ত নির্দিষ্টতম উপাদান ও উপকরণের সংস্থান করে দেয়। ইস্লাম হলো একটি বাস্তবধর্মী জীবন বিধান। তা এমন ধর্ম নয় যে, ধ্যানের জগতে ওয়াজ নছীহত ও তালীম তালকীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

আমরা মোটামুটিভাবে এ কথাগুলো পাঠকবর্গের সামনে উপস্থি করেছি যে, সৃষ্টি জগত জীবন ও মানুষ সম্পর্কে ইস্লামের একটি মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শন বিদ্যমান আছে। আর সামাজিক ইন্সাফের ধ্যান-ধারণা ও রূপরেখা হলো সেই মৌলিক চিন্তাধারা ও বুনিয়াদী দর্শনেরই একটি বাস্তব আলোকরশ্মি ও প্রতিবিম্ব। এ দর্শন ইস্লামী ইন্সাফকে এমন একটি উদারময় ও সার্বজনীন মানবিক ইন্সাফের রূপ দিয়ে পেশ করে, যা বস্তুজগতের বিষয়াবলী ও অর্থনৈতিক সমস্যা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ একই সময় বস্তুজগত আধ্যাত্মিক জগত উভয়ের ভিতর নিহিত। এর ভিতর পার্থক্যের রেখা অঙ্কিত করা ঠিক নয়। মানবতা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ একাত্ব রূপ, যার বিভিন্ন উপাদান পরস্পর বিজড়িত ও সম্বন্ধযুক্ত এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দানে একে অপরের অংশীদার। এটা পরস্পর সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণকারী বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের সমষ্টি নয়। মাঝে মাঝে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, আসল ব্যাপারটি ইস্লামের এ মৌলিক চিন্তাধারার পরিপন্থী।

আত্মার মুক্তি

সামাজিক ধ্যান-ধারণার কোনরূপ ব্যাখ্যা এবং তার প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ীত্বের চিন্তা করা ঐ সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তার পিছনে এ ইন্সাফের সামাজিক প্রয়োজন প্রকটভাবে অনুভূত এবং ব্যক্তির অধিকারের গভীর জ্ঞান অনুভূতি বর্তমান না থাকবে। অতঃপর এমনি রূপেই যে একটি মানবিক উচ্চ আশা-আকাঙ্খার ও মহান উদ্দেশ্যের দ্বারদেশে উপনীতি হওয়া সম্ভব হতে পারে, সে বিশ্বাস ও প্রত্যয় থাকাও একান্ত অপরিহার্য। সাথে সাথে জাগতিক পরিবেশ ও অবস্থা এমনতর হতে হবে যেন, ব্যক্তি এ ইনসাফের ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্ক যুক্ত হতে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তার জন্য সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট বরণ করে নেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে। ব্যক্তির মধ্যে যদি তার প্রয়োজনের বাস্তব অনুভূতি না থাকে এবং যদি সে এ অনুভূতিকে সতেজ সাবলীল রাখার জন্য বাস্তব কর্মপন্থা গ্রহণ না করে, তবে শুধু কেবল আইনের আবেষ্টনী দ্বারা এহেন ইন্‌স্সাফ ও সুবিচার কায়েম করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ আইন-কানুন যদি বাস্তবে রূপায়িতও হয়, তবে সমাজ তাকে প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত রাখতে সক্ষম হয় না। ব্যক্তির মনোজগতে এমন বিশ্বাস ও প্রত্যয় বর্তমান থাকা প্রয়োজন, যা সামাজিক ইন্সাফ প্রতিষ্ঠায় সাহায্যকারীর ভূমিকা নিতে পারে। অনুরূপ তার বর্হিজগতের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনতর হতে হবে, যেন তাকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়।

আরও বই ডাউনলোড করুন
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম - মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান pdf ডাউনলোড
মুক্তির পয়গাম Islami Book Free Download ডাউনলোড
আল কুরআনে অর্থনীতি pdf download ডাউনলোড

ইসলামে মানবিক সাম্য

ইতিপূর্বের আলোচনা দ্বারা আমরা সত্যিকারের সাম্যের মৌলিক উপাদানাবলী এক এক করে গুণে একত্র করেছি। এখন মানুষের আত্ম চেতনাবোধ ও দাসত্ব মনোবৃত্তির মিশ্র দ্রব্যের কবল থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মানুষ দারিদ্রতার অভিশাপ দুঃখ-কষ্ট অপমান এবং মৃত্যুর সংশয় থেকে এ ধারণা-জ্ঞান নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে কোন কাজই আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া হয় না। সে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের শক্তি সমূহের নির্যাতনের যাতাকলের নিষ্পেষণ থেকে যেমন বেড়িয়ে এসেছে, তেমনি মানুষের দুয়ারে ভিক্ষার হাত সম্প্রসারিত করার অপমানজনক কাজ থেকে ও নিষ্কৃতি লাভকরেছে। সে স্বীয় মানবিক বৃত্তিনিচয়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে সেই মহান একত্ববাদের দাবিদার এক মাত্র স্রষ্টার পানে মনোনিবেশ করেছে- যার পানে দাস মনিব সবই মাথাবনত করে। এ সব বিষয়ের ক্রমানুমিক পর্যায় প্রতিটি দিকের এবং জীবনের আবশ্যকীয় উপকরণ প্রত্যেক ব্যক্তির আয়ত্তাধীনে এসেছে এবং সত্যিকার সাম্যবাদের মৌলিক উপাদানাবলী সংগ্রহ হয়ে সাম্যবাদ যখন মানুষের দেহের প্রতিটি শিরা উপশিরার ও ধমনির সাথে মিশ্রিত হয়ে গিয়েছে, তখন আর মানব আত্মার সাম্যবাদের আওয়াজ বুলন্দ করার প্রয়োজন করে না ৷

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান - ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন free -pdf

ইসলামে সমাজবিজ্ঞান
book cover islame somajbiggan pdf download
ইসলামে সমাজবিজ্ঞান ডাঃ এমএ মোসলেহ উদ্দিন
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৪-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২১২
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

ইতিবাচকবাদ (Positivism) ইতিবাচকবাদ হচ্ছে Comte এর প্রবর্তিত একটি দার্শনিক ধারা। এখানে শুধুমাত্র ইতিবাচক বাস্তবতা ও পর্যালোচনাযোগ্য প্রপঞ্চসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর সূত্র ও সম্পর্কগুলো বিশ্লেষণ করা। এই ক্ষেত্রে আদি উৎস ও কারণসমূহ কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়'। ইতিবাচকবাদ দ্বারা Comte মূলত সামাজিক যথার্থতাকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির আলোকেই সমাজের সংস্কার হবে। ইতিবাচকবাদী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নিরীক্ষার ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাহ্যিক বিশ্বের বিশ্লেষণ করা।

Parsons এর মতে একটি মতবাদ হিসেবে ইতিবাচকবাদের বিশ্বাস হচ্ছে এটাই যে সকল মানবিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা ও বিশ্লেষণের জন্য বিজ্ঞানই যথেষ্ট ও চূড়ান্ত'। ইতিবাচকবাদের প্রয়োগের মাধ্যমে Comte চেয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞান তার প্রয়োগ করে বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে একে পুনর্গঠিত করতে। এই উদ্দেশ্যে তিনি পুরাতন ধারার সংগঠনবাদকে তাঁর নিজের ইতিবাচকবাদের সাথে সংযুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাই Readon এর মতে Comte এর এই প্রকল্প ছিল আভিধানিক। তাছাড়া তার ইতিবাচকবাদও ছিল অনেকটা ত্রুটিপূর্ণ। Comte মূলত দর্শনের সাথে বিজ্ঞানের অযৌক্তিক সংশ্লেষণের অপচেষ্টায় অভিযুক্ত। তার মহান উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি, মানবজাতি ও সমাজের একটি সমন্বিত ও সার্বজনীন বিজ্ঞানের প্রবর্তন। তবে মানব মানসিকতার বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার কারণে তাঁর ইতিবাচকবাদ অনেকটাই ভিত্তিহীন ও আভিধানিক হয়ে ওঠে। তাছাড়া প্রকৃতিবাদের মোড়কে যে মতবাদের প্রচলন ঘটান তার সাথেও সাংঘর্ষিক।

সমাজবিজ্ঞানের অন্যান্য ধারা

আগেই বলা হয়েছে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল প্রাচীন গ্রিক দর্শনের রক্ষণশীলতার সাথে ঊনবিংশ শতাব্দীর উদারতাবাদের সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা। কিন্তু চিন্তাধারায় উভয় মতবাদ ছিল বিপরীতমুখী। সমাজ সম্পর্কিত ধারণার ক্ষেত্রে অঙ্গবাদের মূল ভিত্তি ছিল কৃষ্টি ও প্রথা; আর এগুলোকে ইতিবাচকবাদ মনে করত অন্ধ অনুকরণ ও অযৌক্তিক খোলশ ও প্রাচীন ভ্রান্তির প্রতিফলন। তাই সাংঘর্ষিক এই দুই মতবাদের মধ্যে কখনো সমন্বয় সাধন করা সম্ভব নয়।

তাছাড়া আন্ত-মানবিক সংঘর্ষ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অঙ্গবাদ ছিল বেজায় দুর্বল। Comte সামাজিক সংঘর্ষকে বেশি ভয় করতেন। তিনি এমন একটি কর্তৃত্ববাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যেখানে বিরাজ করবে বর্ণ ব্যবস্থা।
প্রতিটি সমাজই মূলত সংঘাতপূর্ণ। Heraclitus সূফীবাদের (Sophists) মত প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ মনে করতেন সামাজিক সংঘর্ষই হচ্ছে সামাজিক বাস্তবাদের প্রাথমিক অবস্থা। মধ্য যুগের আরব বিশ্বে ইবনে খালদুন এর মত দার্শনিকও সামাজিক সংঘর্ষের উপর একটি মতবাদ দিয়ে যান। তাঁর মতে সভ্যতার বিবর্তনে বিদুঈন ও শহরবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য। একই সংঘর্ষ ও সংগ্রামের ভিত্তিতে Marchiavelli রাষ্ট্রের উৎপত্তির ব্যাপারে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। পরবর্তী যুগে সেগুলোর উৎকর্ষ সাধন করেন Jean Bodin, Hobbes ও অন্যান্যরা।

ইতিবাচক অঙ্গবাদ যখন সংঘর্ষজনিত সামাজিক বাস্তবতার ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। তখন সামাজিক চিন্তার জগতে নতুন এক মোড় দেখা দেয়। আর এই বিদ্যার পুনর্গঠনে প্রচেষ্টার নতুন একটি উদ্যোগ দেখা দেয় সংঘর্ষ কেন্দ্রিক মতবাদের চর্চাকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক আচরণবাদ

আকৃতিবাদী সংজ্ঞার আলোকে যখন বিষয়বস্তুও সমাজ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অপূর্ণতার শিকার হয় তখন আবির্ভাব হয় সামাজিক আচরণবাদের সমাজ বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের জন্য নতুন প্রায়োগিক পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চায়। এজন্য প্রাচীন ধারাগুলোর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও আকৃতিবাদের প্রয়োগ বিরোধটির প্রবণতা পরিহার করার উদ্যোগ নেয়। খোঁজ শুরু হয় নতুন ইতিবাচকবাদী পদ্ধতির।

নব্য আদর্শবাদ ও তার শাখা প্রশাখাসমূহের সুবাদে ইউরোপে এই নতুন ধারার বিস্তার দেখা যায়। যেমন, বহুত্ববাদী আচরণবাদ, প্রতীকী মিথস্ক্রিয়াবাদ ও সামাজিক কর্ম ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞানের জগতে ঢুকে সমাজ বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুসমূহের সূক্ষতর সংজ্ঞা খুঁজতে থাকে।
যেহেতু বিভিন্ন প্রপঞ্চের সাথে জড়িত সেহেতু Giddings এর নাম দেয় বহুত্ববাদী আচরণবাদ। এই মতবাদ অনুযায়ী স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও স্বাধীন দলের বৈচিত্রের সমাহার হিসেবে দেখলেই সামাজিক ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

Gabriel Trade (১৮৪৩-১৯০৪) তাঁর প্রবন্ধসমূহের মাধ্যমে এই ধারার উৎপত্তি ঘটান। তাঁর মতে সমাজের মৌলিক একক হচ্ছে বিশ্বাস ও চাহিদা। আর মৌলিক গতি হচ্ছে পুনরাবৃত্তি, বিরোধিতা ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া যা অনেকটা Hegel-এর সংশ্লেষণ ও বিভাজনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামে সমাজবিজ্ঞান

Trade এর মতে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা যা প্রচারের সহায়ক এবং খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া হচ্ছে আবিষ্কার যা কিনা সকল প্রকৃতির উৎস। অনুকরণ হচ্ছে আবিষ্কার অথবা নতুন ব্যক্তিগত মতবাদের সামাজিক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার প্রক্রিয়া। বিরোধিতা প্রতিভাত হয় যুদ্ধ, প্রতিযোগিতা ও আলোচনার মাঝে, যার শেষ হচ্ছে খাপ খাওয়ানো কিংবা নতুন আদর্শের উৎপত্তি। অনুকরণের মধ্যে দেখা গেছে অনেক সমস্যাই লুকিয়ে রয়েছে। অনুকরণ যখন অস্তিত্ব লাভ করে তখন তা এক জটিল কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়। তখন আর তাকে মৌলিক সামাজিক বাস্তবতা মনে হয় না। এটা কল্পনা করা সহজ যে বানর অনেক কিছুই দেখে দেখে করে। কিন্তু তাকে দিয়ে কোনো কিছু করানো দুরূহ ব্যাপার। তাই প্রকৃত অনুকরণ হচ্ছে শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা থেকে উৎসারিত'। এই মতবাদের যে ঘাটতিটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে ভাষা সম্পর্কিত আন্ত-মানবিক মিথস্ক্রিয়াকে এখানে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

সমাজ বৈজ্ঞানিক মতবাদের বিভিন্ন পরিবর্তন

জীবনধারার বিবেচনায় সমাজবিজ্ঞান অবিরত বিভিন্ন পরিবর্তনের শিকার। এর কারণ যদি কেউ বিশ্লেষণ করে তাহলে সহজেই বোঝে আসবে তা হয়েছে এই জন্য যে খোদ সমাজকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব নয়। অতএব আমরা কিভাবে আশা করতে পারি এর উৎপত্তি, ইতিহাস ও সংবিধান সহজে অধ্যয়ন করা যায় যা কিনা আবার সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য?

আরও বই ডাউনলোড করুন
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf ডাউনলোড
ইসলামী দর্শন pdf free download - শিবলী নুমানী ডাউনলোড
তাফহীমুল কুরআন ১-১৯ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড! ডাউনলোড

পৃথিবীতে অনেক বিচিত্র ধরনের সমাজ রয়েছে। এগুলোও আবার সময়ের আবর্তে পরিবর্তনশীল। তদুপরি প্রতিটি সমাজবিজ্ঞানীর রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও রুচি যার প্রভাবে সে সমাজের ব্যাখ্যা তৈরি করে। তাছাড়া সমাজবিজ্ঞানের সাথে অন্যান্য বিজ্ঞানের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। তাই একজন সমাজবিজ্ঞানী যখন আন্ত-মানবিক সম্পর্কের জটিল সমস্যার সমাধান করতে চায়। তখন সমাজবিজ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনেরও দ্বারস্থ হয়।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর  বই -  ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর বই - ইসলামে শ্রমিকের অধিকার pdf

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার - ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
book cover islame sromiker odhikar pdf
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
প্রকাশনীঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বইয়ের সাইজঃ ২-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৮
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

পুঁজিবাদ ও আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব

ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে যে চেতনা জাগে, ক্রুসেড যুদ্ধের মাধ্যমে উন্নততর সভ্যতার অধিকারী মুসলমানদের সঙ্গে মেলা-মেশার কারণে যে আত্মসম্প্রমবোধ জাগে তা সেখানকার সমস্ত পুরনো মূল্যবোধকে লন্ডভণ্ড করে দেয়। তারা অকস্মাৎ যেন এক নূতন দিগন্তের সন্ধান পায়। ধর্মীয় পোপকদের যাঁতাকলে এতদিন তাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনা সমূহ গুমরে মরছিল তা' সহসাই যেন বিকশিত হয়ে ওঠে। সমস্ত বাঁধ তাদের ভেঙ্গে যায়-নব নব আবিষ্কারে তারা মেতে ওঠে।

এরই ফলশ্রুতিতে অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তর সংঘটিত হয়। নূতন নূতন শিল্প ও কলকারখানা আবিষ্কারের ফলে শিল্প উৎপাদনের উপকরণগুলির মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। গোষ্ঠী ও সংঘভিত্তিক সব রকমের শিল্পা-শ্রমগুলি রুমে ভেঙ্গে পড়তে থাকে। গৃহ ও কুটীরশিল্পগুলি মিল ও কারখানার উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বিলীন হয়ে যেতে থাকে। আর বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি এসবের জায়গা দখল করে নিতে শুরু করে। দরিদ্র কুটীর শিল্পীদের হাতে বড় ধরনের ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় পাঁজি না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়ে। আর অন্যদিকে বড় বড় ব্যাসায়ীদের সমন্বয়ে বুর্জোয়া পাঁজিপতি গোষ্ঠীর জন্ম হয়।

শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মনীষিগণের প্রচেষ্টা

শ্রমিকদের প্রতি শিল্পপতিদের অন্যায়-আচরণ অতি সুস্পষ্ট। ইউরোপীয় শিল্প জীবনে এই অন্যায় পাঁজিবাদী ব্যবস্থা এক দুষ্ট বিষ-ক্ষতের মত বিরাজ করতে থাকে এবং তা একটি প্রধানতম সামাজিক সমস্যারূপে দেখা দেয়।
শ্রমিকদিগকে এহেন দুরবস্থা থেকে মুক্তি দানের জন্য, তাদের অবস্থা উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এই সময় নানা মনীষী স্ব স্ব ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী প্রচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠলেন।

আরও বই ডাউনলোড করুন
ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা (প্রয়োজনীয় মাসাইল সহ) pdf islamic book ডাউনলোড
আমার বিয়ের বয়স পার হয়ে গেল বিয়ের জন্য কেউ কখনো চেষ্টা করেনি পড়ুন
আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভুমিকা - পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

সোশ্যালিজম বা সমাজতন্ত্র কথাটির যিনি প্রথম প্রয়োগ করেন তিনি হলেন ম্যানচেষ্টারের সুতা কলের মালিক রবটি ওয়েন (১৭৭১-১৮৫৮)। তিনি নিজে যথেষ্ট মুনাফা অর্জ'ন করতেন, কিন্তু কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের অবস্থা দর্শনে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। নিউলানাক' নামক স্থানে এক আদর্শ কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে সমবায় বিপণী কায়েম করে, অসুস্থ ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে ভাতা দেওয়ার রীতি প্রবর্তন করে তাঁর নিজের কারখানার শ্রমিকদের অবস্থা কিছুটা উন্নত করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু যেহেতু এ এক বেসরকারী একক প্রচেষ্ট। ছিল, তাই সমাজে তা কোন সার্বিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে নি।

সেন্ট সাইমন (১৭৬০-১৮২৪) ও চালর্স' ফুরিয়ে' (১৭৭২-১৮৩৭) সমস্ত পণ্য সরকারী নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদিত সামগ্রী সকল মানুষকে ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করে মেহনতি জনদের অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করলেন।
এরপর প্রচেষ্টা চালালেন লুইব্রাঙ্ক, নৈরাজ্যবাদী জোসেফ প্রধো। (১৮০৯-১৮৬৫) মিখাইল বাকুনীন (১৮১৪-১৮৭৬) প্রমুখ মনীষী। এত করার পরও শ্রমিকদের তেমন উন্নতি পরিলক্ষিত হল না। পূর্বের মত পাঁজিপতিদের পকেট অতিরিক্ত সম্পদ দ্বারা ফুলে ফেপে উঠছিল, আর শ্রমিকদের দিন দিন অন্ধকারের দুর্গম অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল।

সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক

হাজারো লহর বন্যা বহায়ে, অনেক আশার পিদিম জালিয়ে, শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম করার আবেগময় বাণী শুনিয়ে, লাখো মানুষের কবরের উপর শ্রমিকদের তথাকথিত যে স্বপ্ন রাজ্যগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়; তা সত্যই কি মেহনতিদের তথ্য সর্বহারাদের সকল সমস্যার সুষ্ঠ, সমাধান করতে পেরেছে? অন্যকথায়-সমাজতন্ত্র, দাবির বেড়াজালে নয়; বাস্তবিক ভাবেই কি পুজিবাদী স্বৈরাচারের ফলে যে আধুনিক শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়, এদের সমস্যার কোন ন্যায়ানুগ ও কার্যোপযোগী সমাধান বের করতে পেরেছে?

গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে, আজ পর্যন্ত বক্তৃতান্ত্রিক যত আন্দোলন হয়েছে; যতগুলি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সবগুলিতেই কতিপয় মুষ্টিমেয় লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত সাধারণ সর্বহারাদেরকে স্বাচ্ছন্দের আশা দিয়ে, তাদেরকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। পাঁজিবাদীরা রাজতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক অবস্থায় নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষিত করতে না পেরে গণতন্ত্রের নামে; আর গণতন্ত্র এলে বঞ্চিতদের সার্বিক সুবিধা হবে-এর প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সামন্তদের বিরদ্ধে লেলিয়ে দেয়। পরিণামে গণতন্ত্র এলে এর সমস্ত সুবিধার সিংহভাগটাই তারা হাতড়িয়ে নেয়; জনসাধারণ কেবল তাদের উচ্ছিষ্টই চাটবার সুযোগ পায়। ফলে মানুষের অবস্থ! কেমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তা আমরা পূর্বের আলোচনা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম

শ্রমিকের আলোচনা করতে যেয়ে শ্রমিকের কথা আপনা-আপনি এসে পড়ে। শ্রমিকদের হাতে পাঁজি বিনিয়োগের কোন উপায় না থাকায় এবং নিজেদেরকে গতর খেটে পেট চালাতে হয় ভেবে তাদের মানসিক কাঠামো স্বভাবতই দুর্বল থাকে। এক লজ্জাজনক অনুভূতির শিকার হয়ে পড়ে তারা।

ইসলাম শ্রমিকদেরকে এই হীনমন্যতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। সোচ্চার হয়ে ঘোষণা করেছে-ওরে! তুই ছোট নস্। কাছে শ্রমের যোগ্যতা নামক সর্বশ্রেষ্ঠ পংজি তাতে নেই কোন অসমতা। গতর খেটে পূজি না থাকলেও তোর মওজুদ রয়েছে। আর উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন লজ্জাজনক কাজ নয়। হালাল রঙ্গী তালাশ করা তাষে ভাবেই হোক অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ-দ্বিতীয় স্তরের ফরয।

নবী-এ-করীম ইরশাদ ফরমান-শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়। একবার রসুল করীম সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করা হল-ইয়া রসুল! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি উত্তর করলেন-নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জ'ন। রসূলে পাক আরো ফরমান যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের উপর জীবিকা নির্বাহ করে তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখ, আল্লাহ'র নবী দাউদ (আঃ) নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা চালাতেন।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ Bangla Islamic Book free

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ - ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
book cover islame noitikota o achoron
ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ ডাঃ মারওয়ান ইবরাহীম আল কায়সি
প্রকাশনীঃ ইসলামিক থ্যাট
বইয়ের সাইজঃ ৩-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৭৯
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামি আদবের ভূমিকা

ইসলামি আদবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে: সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখা। আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় গুণাবলী হচ্ছে সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদা রক্ষা করা, ক্রোধ সংবরণ করা, ধৈর্য, ভদ্রতা, মমত্ববোধ ইত্যাদি। এসব গুণ মানুষের মধ্যে অনাস্থার ভাব দূর করে আস্থা সৃষ্টি করে- যা সুষ্ঠু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ভিত্তি যুগিয়ে থাকে।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত অথবা নিজের জন্য যতখানি ভাবা হয় অন্যের জন্যেও তা ভাবা আবশ্যক। মুসলমানদেরকে পারস্পরিক দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একজনকে অপরের বাস্তব সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

ইসলামি আদব লেহাজে আনুষ্ঠানিকতার স্থান সামান্যই। এর ফলে অবাধ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজ প্রশাসন আরো গতিশীল হয়, বৈঠকাদি ও যাতায়াতের পথ সুগম হয়। কারণ ইসলামে বিচ্ছিন্নতা নেই। মুসলমানদের পারস্পরিক দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এজন্যে যে, এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার হয় এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মনস্তাত্ত্বিক কুফল থেকে ব্যক্তি রক্ষা পায়। তদুপরি মুসলমানদেরকে অবাধে দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। মেহমানদারির ব্যাপারে কর্তব্য হচ্ছে মেহমানের প্রতি অতিথিপরায়ণ ও উদার হওয়া। খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের ওয়ালিমায় যাওয়াকে অবশ্য কর্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামে যৌনাচরণ বিধি

আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতির অংশ হিসেবে ইসলাম যৌনতার স্বীকৃতি দেয়। তার সৃষ্ট সব কিছুই তার বিধান মোতাবেক আচরণ করলে খারাপ বা ভুল হতে পারে না। সন্দেহ নেই, ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং সার্বিকভাবে সমাজের এক অপরিহার্য বিষয় যৌনজীবন। ব্যক্তিগত স্বার্থ-চেতনা এবং ভালবাসার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে যৌনতার বিকাশ নিবিড়ভাবে গড়ে উঠে। যৌনজীবনে বঞ্চনার ফলে অপরিচ্ছন্ন থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়, সুসম্পর্ক ব্যাহত হয় এবং সমাজে দক্ষতার অভাব ঘটে। বিবাহের মাধ্যমে যৌন জীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত না করলে যৌনপ্রবৃত্তি ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এটা তখন ব্যক্তি, বিয়ে ও পারিবারিক প্রথা এবং সার্বিকভাবে সমাজের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। মূলতঃ যৌনতা ব্যক্তিকে তার বেপরোয়া পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে; অপরদিকে এর বেপরোয়া গতি সমাজ জীবন যে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল তা বিপন্ন করতে পারে।"

সুতরাং যৌনাচারকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা অবশ্য কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়; সমাজে যে সব উপায়-উপকরণের সাহায্যে ব্যক্তির যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা অসম্ভব মনে হতে পারে। নিম্নোক্ত আচরণবিধি অনুসরণের মাধ্যমে ইসলাম এই সমস্যার সমাধান পেশ করেছেঃ

মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব

ইসলামি আদবের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে: বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, ভিন্ন ভাষাভাষী এবং বিশ্বের বিভিন্নাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত ইসলামি আদব লেহাজের ধর্মীয় প্রকৃতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পাকিস্তান সফরকারী একজন মরোক্কোবাসী সেখানকার জনগণের আচরণ বুঝতে অসুবিধায় পড়েনা, অথবা বিদেশ বিভূই বলেও মনে হয়না। মিশরের মুসলিম মহিলারা ইসলামি পোশাক পরিহিতা তুর্কি মহিলাদের দেখে বিস্মিত হয় না। ইসলামি সমাজের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেসব পন্থায় কাজ করে, তা তাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ

আরও বই ডাউনলোড করুন
Pdf Book নেক আমল বিধ্বংসী বদ আমল সমূহ - মাসুদা সুলতানা রুমী ডাউনলোড
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী - মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে - সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড
রিয়াদুস সালেহীন সকল খন্ড PDF Download ডাউনলোড

ইসলামি আদব মুসলমানদের মধ্যে অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলে; গঠন করে একটি সার্বজনীন সংস্কৃতি। স্থানীয় সংস্কৃতি এক ইসলামি সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায়ে ভিন্ন হতে পারে। নামাজ পড়া ও শুভেচ্ছা জানানো, প্রধান প্রধান উৎসব, পানাহারে বিধি নিষেধ (যেমন মদ্য পান), হালাল ও হারাম মেনে চলা- প্রভৃতি সার্বজনীন ইসলামি ঐক্যের উপকরণ। প্রতিটি অঞ্চলে মুসলিম শালীন পোশাক পরিধান করে এবং বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যথাযথ ইসলামি পোশাক পরে। স্থানীয় বৈচিত্র্যধর্মী সংস্কৃতি (যেমন খাবারের ক্ষেত্রে পাক-ভারত উপমহাদেশে জনপ্রিয় বিরিয়ানী অথবা পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতে মুসলিম নারীদের মধ্যে চালু শাড়ী) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ: এর ফলে এক অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মুসলমানদের পার্থক্য বুঝা যায়। কুরআনের ভাষায় আমাদের বিভিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা একে অপরকে চিনতে পারি। এসব বিষয় বিশেষ কোন এলাকার মুসলমানদের চরিত্র ও পরিচয় মুছে দেয়না। ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে: অমুসলমানদের আচার আচরণের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞা পালন। এর সাথে অবশ্য হস্তশিল্প, প্রযুক্তি ৷

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানান্বেষণকে সবসময় উৎসাহিত করে এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ব্যাপারে আচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচার আচরণ তাদের নিজস্ব ইসলামি দ্বারাই পার্থক্য করা যেতে পারে।

 অধ্যাপক মুজিবুর রহমান - ইসলামী আচরণ Bangla Pdf

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান - ইসলামী আচরণ Bangla Pdf

ইসলামী আচরণ - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান pdf free download
book cover islami achoron
ইসলামী আচরণ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
প্রকাশনীঃ আহসান পাবলিকেশন
বইয়ের সাইজঃ ১-এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৪
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগঃ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতায়ঃ বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমি তোমাদের মাঝে দু'টি জিনিস রেখে গেলাম, যতদিন পর্যন্ত তোমরা এ দু'টি জিনিষের হুকুম মত চলবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হল আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ও আমার সুন্নাত- আল হাদীস।"

সমাজ জীবনে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত নিচের হাদীসটি তা স্পষ্টভাবে বলে দেয়-
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক মহিলা বেশী নামায পড়ে, রোজা রাখে এবং দান খয়রাত করার ব্যাপারে খ্যাতি লাভ করেছে। কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে নিজের মুখের দ্বারা কষ্ট দেয়। তিনি বললেন, সে জাহান্নামী। লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক (অপর এক) মহিলা, যে কম করে রোজা রাখে, দান করে এবং নামায পড়ে বলে জনশ্রুতি আছে। তার দানের পরিমাণ হলো পনীরের টুকরা বিশেষ, কিন্তু সে নিজের মুখের দ্বারা তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। তিনি বললেন: সে জান্নাতী। (আহমদ ও বায়হাকী)

আমরা আমাদের প্রিয় নবী (স:)-এর কথা ভুলে গেছি বলে পথ হারা হয়েছি। ফলে কোথায় কোন আইন মেনে চলতে হবে, কোথায় কেমন আচরণ করতে হবে, কোথায় কি কথা বলতে হবে-ইত্যাদি ব্যাপারে আমরা সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছি না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষতা ও জড়বাদের অন্ধকারে অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইসলামের প্রজ্জ্বলিত আলো এর মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে দিন দিন আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা জাহেলিয়াতের হিংস্র কালো থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। অন্ধকারে পথ হাতড়াতে গিয়ে কখনও আহত কখনও রক্তাক্ত হচ্ছে তাদের হাতগুলো। অন্য দিকে প্রচার জগতের ইলেকট্রনিক মিডিয়া কচি ও নিষ্পাপ অন্তরগুলোকে জাহেলিয়াতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জ্বালিয়ে পুডি ছারখার করে দিচ্ছে। জীবনকে করে তুলছে অভিশপ্ত।

মাতাপিতার প্রতি সন্তানের আচরণ

আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন-
وَقَضَى رَبُّكَ الأَتَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا - بني اسرائيل : (۲۳)
"তোমার রব ফয়সালা করেছেন যে তোমরা কারো ইবাদত (গোলামী) করবে না কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার সাথে ভাল ব্যবহার করবে। তোমাদের নিকট যদি তাদের কোন একজন অথবা উভয়ই বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছে তবে তাদেরকে 'উহ' পর্যন্ত বলবে না, তাদেরকে ভর্ৎসনা করবে না এবং তাদের সাথে মর্যাদা সহকারে কথা বলবে।" (বানী ইসরাইল- ২৩)

আরও বই ডাউনলোড করুন
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী - মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে - সকল খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড
আপনাদের প্রশ্নের জবাব ১-৩ খন্ড পিডিএফ বই ডাউনলোড ডাউনলোড
শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ১-৭ খন্ড পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড

এখানে আল্লাহ তায়ালা মাতাপিতার প্রতি আদব ও সদ্ব্যবহার করাকে নিজের এবাদতের সাথে একত্রিত করে ফরজ করে দিয়েছেন। আবার সূরা লোকমানে আল্লাহর শোকর আদায় এর সাথে পিতামাতার হক আদায় করাকে একত্রিত করে অপরিহার্য করে দিয়েছেন। বুখারী শরীফে নামাজকে সময়মত পড়ার পরই পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারকে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূল (সঃ) বলেছেন পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পিতামাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। ইবনে মাজার হাদীসে বলা হয়েছে- তোমার পিতামাতা তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। বায়হাকীর এক হাদীসে বলা হয়েছে পিতামাতা সন্তানের প্রতি যদি জুলুমও করে তবু পিতামাতার প্রতি অবাধ্যতার কারণে সন্তান জাহান্নামে যাবে। এর অর্থ হল পিতামাতার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার সন্তানের নেই। তারা জুলুম করলেও সন্তান সেবাযত্ন ও আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিতে পারে না।

স্ত্রীর সাথ স্বামীর আচার-ব্যবহার

সূরা রা'দ এর ২২ ও ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-
وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلوةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ - جَنَّتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ - (الرعد : ۲۲-۲۳)
"যারা তাদের রবের সন্তুষ্টির জন্য সবর করে, নামাজ কায়েম করে, আর আমি যা দিয়েছি তা থেকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং খারাপের মোকাবিলা ভাল দিয়ে করে তাদের জন্য রয়েছে পরকালের বাড়ী। তা হচ্ছে বসবাস করার বাগান, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা প্রবেশ করবে আর ফেরেশতারা প্রত্যেক দরজা দিয়ে সালাম করতে আসবে।"

ইসলাম মানবতার ধর্ম bangla book pdf

ইসলাম মানবতার ধর্ম bangla book pdf

ইসলাম মানবতার ধর্ম
islam manobotar dhoro pdf book free
ইসলাম মানবতার ধর্ম ডাঃ মুস্তাফা আস সাবায়ী
প্রকাশনী ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
ভার্চুয়াল সাইজ ১ এমবি
পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯ পৃষ্ঠা
বইয়ের ফরম্যাট পিডিএফ ই-বুক
বিভাগ ইসলামী আদর্শ
কৃতজ্ঞতা বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার

যারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ইসলামী সভ্যতা ও তার আনুষঙ্গিক প্রভাব-প্রতিক্রিয়। লক্ষ্য করবেন তাঁরা অবশ্যই স্বীকার করবেন যে, ইসলামী সভ্যতার শিরা-উপশিরায় মানবতার প্রবল স্রোতধারা যেভাবে সঞ্চালিত তাতে তা বিশ্বের যাবতীয় সভ্যতার শীর্ষে স্থান পাবার যোগ্য। প্রকৃত-পক্ষে মানবতাই হচ্ছে ইসলামী সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই বৈশি-ষ্ট্যের প্রভাবেই ইসলাম মানবজাতিকে দলাদলি, রেষারেষি ও পক্ষ-পাতিত্বের সংকীর্ণ' পরিবেশ ও বর্ণ বৈষ্যমের ঘিঞ্জিগলি থেকে এমন এক মুক্ত পরিবেশে নিয়ে আসে যেখানে আছে শুধু, শালীনতা ও বন্ধুত্বের প্রাণমাতানো সমীরণ, আর প্রেমপ্রীতি ও ভালবাসার সুমধুর সুরলহরী-যেখানে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির উপর, এক গোত্র অপর গোত্রের উপর, একদল অপর দলের উপর কিংবা একজাতি অন্য জাতির উপর জুলুম-অত্যাচারের কোন সুযোগই পায় না। ইসলামের এই অনুপম বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার সম্মুখে কিংবা তার ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক আইনকানুন ও শান্তিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ রূপে বিদ্যমান। ইসলামী সভ্যতার প্রতিটি বিভাগ ও প্রতিটি স্তর এই বৈশিষ্ট্যের মহিমায় মহিমান্বিত। ইসলামের সত্যিকার অনুসারিদের কর্ম'জীবন তো এই বৈশিষ্ট্যের এক একটি বাস্তব উদাহরণ ছাড়া কিছু নয় ।

দুর্নীতির উপসর্গ ও তার সৃষ্টিকর্তা

ইসলামী সভ্যতায় মানবতার প্রভাব সর্বপ্রথম নজরে পড়ে তখন যখন দেখা যায় সে গোটা মানবজাতিকে একই পিতার সন্তান বলে ঘোষণা করেছে। কুরআন বলেঃ হে মানবজাতি, তোমাদের প্রভুকে ভয় ক'রে চল। তিনি তোমা-দের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা হতে তার সহ-ধর্মিণীকেও সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর ঐ একই স্বামী-স্ত্রী হতে তিনি অসংখ্য নর-নারীর বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন।
অর্থাৎ মানুষ মাত্রেই একই বংশের অন্তর্গত। তাদের মধ্যে জাতি-গত যে পার্থক্য রয়েছে তা মোটেই লক্ষণীয় বিষয় নয়। কেননা এই পার্থক্য একই ঔরসজাত সন্তানের পার্থক্যের সমান। মানুষ শাখা-প্রশাখায় ভিন্ন ভিন্ন হলেও মূল তাদের একই। গোটা মানবজাতি যখন একই বংশোদ্ভূত তখন তাদের মধ্যে পরস্পর স্নেহ, ভালবাস। সাহায্য-সহায়তা ও উপকার সাধনের প্রবল আগ্রহ থাকাটা একান্ত বাঞ্ছনীয়। অতঃপর ইসলাম এক অভিনব পদ্ধতিতে মানবতার আর দিক বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এই বিশেষ দিকটির প্রতি জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে কুরআন ঘোষণা করছে: হে মানবজাতি আমি তোমাদের একই স্ত্রীলোক ও একই পুরুষ হতে সৃষ্টি করেছি। আর পরস্পর পরিচয় লাভের জন্যই আমি তোমাদের মধ্যে বংশ ও গোত্রের প্রবর্ত'ন করেছি।

আরও বই ডাউনলোড করুন
রিয়াদুস সালেহীন সকল খন্ড PDF Download ডাউনলোড
রুবাইয়াত-ই হাফিজ পিডিএফ ডাউনলোড ডাউনলোড
কুরআন হাদীসের আলোকে মরণ ব্যাধি দূর্নীতি pdf ডাউনলোড

ইসলাম: মানবতার ধর্ম

হে মানবজাতি আমি তোমাদের একই স্ত্রীলোক ও একই পুরুষ হতে সৃষ্টি করেছি। আর পরস্পর পরিচয় লাভের জন্যই আমি তোমাদের মধ্যে বংশ ও গোত্রের প্রবর্ত'ন করেছি। অতঃপর ইসলাম মানব জীবনের আর একটি বিশেষ অবস্থার দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর তা হলো, এই জীবন সংগ্রামে কেউ জয়ী হয়, কাউকে আবার পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে হয়। কেউ প্রাচু-যে'র মধ্যে থাকে, কারো আবার অন্ন-বস্ত্রেরই সংস্থান হয় না। কেউ শাসন ক্ষমতার অধিকারী হয়, কাউকে আবার বাধ্যতামূলকভাবে অন্যের বশ্যতা স্বীকার করতে হয়। কারো গায়ের রং কালো, কারো সাদা, কারো হলদে, কারো বা অন্য কিছু।

ইসলামের মতে, মানব জীবনে এই সমস্ত পার্থক্য থাকাটা একান্ত স্বাভাবিক। পার্থিব জীবনের সাথে এই সমস্ত বৈপরীত্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, য। উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত কিংবা শক্তি-সামর্থ্য ও শাসন ক্ষমতার অধিকারী, তা তাদের পার্থিব মযার্দা বা ক্ষমতাবলে ক্ষমতাহীন কিংবা শাসিতদের দন্ডমুন্ডের মালেক হয়ে বসবে। এর অর্থ এইও নয় যে, শেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের দেখলে নাক সিটকাবে। প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ এই যে, খোদার দৃষ্টিতে সকল মানুষই সমমর্যাদার অধিকারী। তবে হ্যাঁ, সততা ও খোদাভীতির তারতম্য অনুসারে তাদের মর্যাদারও তারতম্য ঘটতে পারে। কুরআন বলে:-
নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় করে। সবচেয়ে বেশী সম্মানিত যে অর্থাৎ আইনের চোখে সবাই সমান। একমাত্র সততার ভিত্তিতেই মানুষের মধ্যে তারতম্যের সৃষ্টি হতে পারে। সমাজের প্রত্যেক লোকই সমমর্যাদার অধিকারী। অতএব সবল দুর্বলকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দিতে পারে না-এবং কিছুসংখ্যক লোককে দুঃখ-সাগরে ভাসিয়ে বাকী লোক আমোদ-স্ফূর্তিতে ডুবে থাকতে পারে না।

রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ

পরস্পর ভালবাসা ও সহানুভূতির দিক দিয়ে মুসলমানরা যেন একই দেহের বিভিন্ন অংশ। যখন এই দেহের কোন একটি অংশে আঘাত লাগে, তখন গোটা দেহেই ছড়িয়ে পড়ে তার প্রতিক্রিয়া-প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যাতনায় ছটফট করতে থাকে। শুধুমাত্র উপরোক্ত কথাগুলোই নয় বরং কুরআন-হাদীসে এমন আরে। অনেক কথা আছে যা মানবজাতির সমজাতীয়ত। ও সমগোত্রীয়-তার এক একটি অকাট্য দলিল। কুরআন মানবজাতিকে 'হে নবী আদম', 'হে মানব জাতি' শব্দ দ্বারা সম্মোধন করেছে। আর যখন ইসলামপন্থীদের স করার আবশ্যক বোধ করছে তখন 'হে মুসলিমগণ' বা এই জাতা, শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেছে। 'হে পরাক্রমশালী মানবগোষ্ঠি' বা 'হে শ্বেতাঙ্গ মুমিনগণ'-এজাতীয় শব্দের কোন সম্বোধন কুরআন-হাদীসের কোথাও নেই। সমগ্র মানবজাতি হোক কিংবা কোন একটি বিশেষ ধর্মে'র অনুসারীই হোক-সকলকেই একই সমতলে দাঁড় করিয়েছে।